নিম্নের বিষয়টি শুনতে পারবেন।
ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
পড়ার চেয়ে যারা শুনতে পছন্দ করেন, তাঁরা এখানে বিষয়টি শুনতে পারবেন।
অনলাইন বা সফট কপি পড়তে অভ্যস্ত নন, তাঁরা ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
২। স্বাধীনতার পর থেকে
২০২৫ সাল পর্যন্ত সকল নির্বাচন ত্রুটি,
(ক) প্রথম জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন: স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সেসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামিলীগের পরাজিত হবার
সম্ভাবনা ছিলনা কিন্তু তারপরও ব্যপক অনিয়ম করা হয়। স্বাধীনতার পরেই সমালোচনা ও
বিরোধীদের ন্যুনতম সহ্য করার মানসিকতা ছিল না আওয়ামিলীগের। বিরোধী রাজনৈতিক দল
মাত্র দুটি আসন লাভ করে, যার একটি পান জাতীয় লীগের বর্ষীয়ান নেতা
আতাউর রহমান খান আর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) আবদুস সাত্তার।
(১) ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা নামে মুক্তিযোদ্ধা ছিল-দেশ স্বাধীন করতে প্রাণ
দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত দেখাতো তারাই ১৬ ডিসেম্বরে পরে ক্ষমতা দখল, শোষণ,
দুর্নীতি, দলপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি
ও লুটপাট শুরু করে, যে সকল কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জনমত
তৈরি করেছিল, তারা সেগুলোরই প্রচলন করে।
(২) ভাসানী পল্টনে জনসভা করলে, শেখ
মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করছেন, জনসভায় লোক বেশী
দেখাতে বা নাগরিকের সাথে প্রতারণা করতে টাকা, খাদ্য, ও পোশাকের বিনিময়ে জনসমর্থন ভাড়া করা হতো। এভাবে প্রতারণার বীজ বপন করা
হয়।
(৩) নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল সব
দলেরই,
(ক) প্রার্থীদের অপহরণ করা হয়েছে,
(খ) ভুয়া ভোট ও একাধিক জাল ভোট দেয়া হয়েছে,
(গ) যানবাহন সিন্ডিকেট করে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়,
(ঘ) প্রার্থীদের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করে,
(ঙ) বিরোধীদলগুলোকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাতে বাধা প্রদান করা হয়েছে,
(চ) রেডিও টেলিভিশনে অপজিশন নেতাদের বক্তৃতা প্রচার করতে দেওয়া হয়নি,
(ছ) প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা বাড়িয়ে ঘোষণা করে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কারচুপি করা
হয়েছে,
(জ) পোলিং বুথ দখল,পোলিং এজেন্ট অপহরণ, পোলিং
এজেন্টকে কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি,
(ঝ) বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা প্রার্থীকে বেতার ও টেলিভিশনে পরাজিত ঘোষণা
করা হয়েছে,
(ঞ) অস্ত্রের ঝনঝনানি, সন্ত্রাস প্রয়োগ, গুন্ডাবাহিনী
ব্যবহার করে ঢালাও ভয়ভীতি, হুমকি ও হত্যা করা হয়েছে,
(ট) প্রশাসনিক ক্ষমতার মারাত্মক অব্যবহার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চরম
দূর্ণীতি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে,
(ঠ) আওয়ামী লীগ বিদেশী সাহায্য সংস্থা, জাতিসংঘ,সরকারি গাড়ি এবং রেডক্রসের গাড়ির অপব্যবহার করে প্রচারণা চালায়ছে।
(৪) অনিয়মের সেই নির্বাচনে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের
স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বীজ বপন করে।
(৫) তথ্যসূত্র, বাংলাদরশের রাজনীতি-হালিম দাদ খান, জাসদের উত্থান পতনঃঅস্থির সময়ের রাজনীতি, জাতীয় রাজনীতি -অলি আহাদ, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ
বছর-আবুল মনসুর আহমদ, গণকণ্ঠ, ১০মার্চ১৯৭৩;জাসদের উত্থান পতনঃঅস্থির সময়ের রাজনীতি, সংবাদ,
১১মার্চ ১৯৭৩, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, আহমদ ছফা, খান আতাউর সহ আরো অনেকে।
(খ) দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৭৯ সালের ১৮
ফেব্রুয়ারি সামরিক শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো এ
নির্বাচন নিয়ে অভূতপূর্ব কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল।
(১) সামরিক শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা শঙ্কা ছিল।
বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সামরিক আইন বাতিলসহ বেশ কিছু শর্ত
দিয়েছিল। তবে সেসব শর্ত পূরণ না হলেও তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
(২) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার জরিপের ভিত্তিতে ‘নীলনকশা’র এ নির্বাচনের ফল পূর্বনির্ধারিত ছিল। নির্বাচনের আগে নেওয়া বিভিন্ন
সংস্থার জরিপের ভিত্তিতে বঙ্গভবনে ফলাফল সম্পর্কে যে নীলনকশা তৈরি হয়েছিল, সেটাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
(৩) তথ্যসূত্র, মহিউদ্দিন আহমদ, বিএনপি:
সময়–অসময়, আবুল ফজল হক, বাংলাদেশের
শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতি, নেসার আমিন সম্পাদিত বাংলাদেশের
নির্বাচনি ব্যবস্থা ও ফলাফল।
(গ) তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৮৬ সালের ৭
মে সামরিক আইনের কড়া বিধিনিষেধের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করে। প্রথম দিকে
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং শীর্ষস্থানীয় অনেক বিরোধী নেতাকে আটক
করে।
(১) কোনো দলই এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যেতে চায়নি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক
দলগুলোকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিলে আওয়ামী লীগ সহ কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭–দলীয় জোট এবং বামপন্থিদের ৫–দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে।
(২) আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে “স্বৈরাচারের নির্বাচন” আখ্যা দিয়ে, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের “জাতীয় বেইমান” হিসেবে চিহ্নিত করার ঘোষণা
দিয়েছিল।
(৩) তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, ভোটার উপস্থিতি ছিল বড়জোর ২০ শতাংশ।
(৪) নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি, অনিয়ম ও
সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছিল। সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা সরকারি দলকে এসব কাজে সহায়তা
করেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।
(৫) নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ তাদের হেরে যাওয়া ১০০ আসনে
পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে।
(৬) বেশির ভাগ বিরোধী দল তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে বৈধ সরকার হিসেবে মেনে
নেয়নি।
(৭) তথ্যসূত্র,
বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং পর্যবেক্ষণ সংস্থার মতে ১. মহিউদ্দিন
আহমদ, বিএনপি: সময়–অসময়,
প্রথমা ২. মো.
আবদুল মান্নান,
ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ, একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি।
(ঘ) চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ
এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ,
বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল নির্বাচন বর্জন করে।
(১) ১৯৮৭ সালের শেষ দিকে আন্দোলন তীব্র হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগসহ জাতীয়
সংসদের বিরোধীদলীয় বেশির ভাগ সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ২৭ নভেম্বর
জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ৭ ডিসেম্বর সংসদ ভেঙে দেন।
(২) দেশে নির্বাচনের পরিবেশ না থাকার পরও ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ আবার সংসদ
নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিরোধী দলগুলো এ নির্বাচন বর্জনের জন্য
জনগণের প্রতি আহ্বান জানায়। ২ ও ৩ মার্চ হরতাল আহ্বান করা হয়। অপরদিকে সরকার সব
ধরনের নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং বিরোধী দলগুলোর বহু
নেতা–কর্মীকে কারারুদ্ধ করে।
এ রকম ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করায় ওই নির্বাচন নিয়ে মানুষের
কোনো আগ্রহ ছিল না। জাতীয় পার্টি ও এরশাদের ‘অনুগত’ ছোটখাটো কিছু দল সেই নির্বাচনে
অংশ নেয়।
(৩) চতুর্থ সংসদ নির্বাচন ছিল একটি ‘একতরফা’ নির্বাচন। এতে অনেক দলের অংশগ্রহণ
দেখানো হলেও প্রধান বিরোধী দলগুলোই ছিল নির্বাচনের বাইরে। তারা নির্বাচন বর্জন ও
প্রতিহতের ডাক দিয়েছিল। বিরোধীদের মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকেও নানারকম ব্যবস্থা
নেওয়া হয়েছিল।
(৪) প্রশ্নবিদ্ধ এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি ক্ষমতা ধরে রাখে। ফ্রিডম
পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমর্থন নিয়ে আ স ম আবদুর রব সংসদের বিরোধীদলীয়
নেতা নির্বাচিত হন। ফলে অনেকেই তাঁকে ‘গৃহপালিত’ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আখ্যা
দিয়েছিলেন।
(৫) তথ্যসূত্র: ১. মো. আবদুল মান্নান, ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ, একাডেমিক প্রেস
অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি, ২. রওনক
জাহান, বাংলাদেশ পলিটিকস: প্রবলেমস অ্যান্ড ইস্যুজ, ৩. নেসার আমিন সম্পাদিত বাংলাদেশের
নির্বাচনি ব্যবস্থা ও ফলাফল।
(ঙ) পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণআন্দোলনের মুখে
এরশাদ সরকারের পতনের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয়
অন্তবর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনে প্রতীক
কারসাজি, কালো টাকা, সন্ত্রাস ও ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ
করে বিরোধী দলগুলো।
(১) ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতেই দেওয়া
হয়নি। প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর আক্রম, অপহরণ ও
প্রচারণায় বাধা অভিযোগ করে।
(২) তৎকালীন সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা বিএনপিকে জিতিয়ে আনার জন্য
তাদের প্রার্থী নির্বাচন ও অর্থের যোগানসহ জামায়াতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগীর অভিযোগ করে বিরোধী দলগুলো।
(৩) তথ্যসূত্র: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর-আবুল মনসুর আহমদ, সংবাদপত্র
(চ) ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন: ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএনপি সরকারের অধীনে
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্দলীয়
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দাবিতে দেশের সবকটি বড় রাজনৈতিক দল সে
নির্বাচন বয়কট করেছিল।
(১) নির্বাচনের দিন বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় অন্তত ১০ জনের নিহত হবার খবর
প্রকাশিত হয় সংবাদপত্রে।
(২) একতরফা সেই নির্বাচনে ৪৬টি আসনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিএনপির
প্রার্থীরা ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়ে যান।
(৩) তথ্যসূত্র: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর-আবুল মনসুর আহমদ, সংবাদপত্র
(ছ) সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিরোধী দলগুলোর
তীব্র আন্দোলনের মুখে ৩০ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
(১) বিএনপির
স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমান তৎকালীন সেনাপ্রধান, সেনাগোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে গণঅভ্যূত্থানে পতিত দলটিকে নির্বাচিত করতে
নীল নকশা চেষ্টা করছে অভিযোগ করে কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
(২) বিরোধী
দলগুলো এই নির্বাচনে কালো টাকা, সন্ত্রাস, ব্যালট বক্স ছিনতাই, রাতে ভোট ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে।
(৩) তথ্যসূত্র:
আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর-আবুল মনসুর আহমদ, সংবাদপত্র।
(জ) অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২০০১ সালের ১
অক্টোবরের এই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের চেষ্টা করা হয়।
(১) কয়েকটি রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে,আওয়ামী লীগ অস্ত্রের ঝনঝনানি, সন্ত্রাস প্রয়োগ, গুন্ডাবাহিনী ব্যবহার
করে ঢালাও ভয়ভীতি, হুমকি ও সমর্থকদের হত্যা করে নির্বাচিত
হওয়ার চেষ্টা করছে।
(২) স্থূল কারচুপি ও বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে অবৈধ চুক্তি করে নির্বাচিত হওয়ার
অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ।
(৩) প্রশাসনিক ক্ষমতার অব্যবহার করে ভুয়া ভোটারের অভিযোগ করে কয়েকটি রাজনৈতিক
দল।
(৪)
তথ্যসূত্র: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর-আবুল মনসুর আহমদ,
সংবাদপত্র।
(ঝ) নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিচারপতিদের অবসরের
বয়সসীমা বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগের চেষ্টায়
২০০৬ সালের নির্বাচন ২০০৮ সালের ২৯
ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
(১) তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বড় দুই দলে 'সংস্কারবাদী'
নামে বিকল্প নেতৃত্বে ড. ইউনূসকে প্রধান করে 'নাগরিক শক্তি'
নামে দল গঠনের প্রচেষ্টা করে। ড. ইউনূস সম্মতি প্রদান না
করায় ব্যর্থ হয়ে
(২) পরবর্তীতে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ নিজেই 'কিংস পার্টি'
গঠনের প্রচেষ্টা করে। সামান্যতম জনসমর্থন না পেয়ে সে
পরিকল্পনা আঁতুড়ঘরেই মারা যায়।
(৩) সেটাও সফল না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশের পরামর্শে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে 'দুই বছরের সকল কর্মকাণ্ডের বৈধতা' দেওয়ার আশ্বাস
নিয়ে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এ
নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা সব রকম 'প্রভাব'
সৃষ্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করে।
(৪) সেনাবাহিনী ও সেনাগোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তারেক
রহমানের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর 'মুচলেকা' আদায়,
প্রভাবশালী প্রার্থীদের অপহরণ, ভোট কেন্দ্র দখলে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতার অভিযোগ করে বিরোধী দলগুলো।
(৫) তথ্যসূত্র: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর-আবুল মনসুর আহমদ, সংবাদপত্র।
(ঞ) দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ
নির্বাচন দাবিতে দেশের বড় রাজনৈতিক দলসমূহ সে নির্বাচন বয়কট করেছিল।
(১) একতরফা সেই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ
প্রার্থীরা ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়ে যান।
(২) বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল
পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম ও নানান অজুহাতে ফাঁসি সহ রাজনীতি
বিশৃঙ্খলায় ৯০৮ জনকে হত্যা করে ক্ষমতার পথ পরিষ্কার করে আওয়ামী লীগ।
(৩) তথ্যসূত্র: সংবাদপত্র।
(ট) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২০১৮ বাংলাদেশে ৩০
ডিসেম্বরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
(১) পার্শ্ববর্তী দেশের পরামর্শে তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও তাদের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ
জোটের বিরুদ্ধে রাতে ব্যালটবাক্স ভরার অভিযোগ করে সবগুলো বিরোধী রাজনৈতিক দল।
(২) এই অভিযোগে নির্বাচনের দিন শুরু থেকেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন
থাকলেও দুপুরের পূর্বে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
(৩) পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সাথে জোটবদ্ধ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাতের ভোট
স্বীকার করে বা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ থেকে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।
(৪) নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, তৎকালীন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণ, বিরোধী
প্রার্থী ও সমর্থকদের গুম-হত্যা, বিরোধী নেতাকর্মীদের গণ আটক,
ভয়ভীতি, হুমকি, ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও ভোট ডাকাতি অভিযোগ করে বিরোধী দলগুলো।
(৫) বিরোধী দলগুলো, ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ১৯৭৩ সালে
নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির মনে করেন।
(ঠ) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২০২৪
সালের ৭ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
(১) নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দাবিতে দেশের বড়
রাজনৈতিক দলসমূহ এই নির্বাচন বয়কট করেছিল।
(২) প্রভাবশালী রাষ্ট্রেগুলো সমর্থনে সুষ্ঠু নির্বাচন বা গণতন্ত্র ফেরানোর
প্রচেষ্টায় ইন্ডিয়ার বিজিবি দলের প্রত্যক্ষ বাধা ও সরাসরি হস্তক্ষেপে
স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ চেষ্টা থেকে
নিজেদেরকে ফিরিয়ে নেয়।
(৩) একতরফা নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন দেখাতে, আওয়ামী লীগ দলী ও জোটের মধ্য থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে
অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ
করে।
(৪) নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, তৎকালীন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণ, জাল ভোট,
মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করা, পোলিং বুথ দখল,পোলিং এজেন্ট
অপহরণ, পোলিং এজেন্টকে কক্ষে ঢুকতে না দেওয়া, বেসরকারিভাবে
বিজয়ী ঘোষণা করা প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক পরাজিত ঘোষণা করা, ও ফলাফল ঘোষণায়
কারচুপির অভিযোগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
(৫) সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও তাদের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ জাল ভোট প্রদান করে,
যার চিত্র সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়।
দেশ-বিদেশের পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণে ১৩% ভোটার উপস্থিতি বলা হলেও নির্বাচন
কমিশন ৪২% ভোটারের উপস্থিতি প্রকাশ করে। সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে দেশের
বিশেষজ্ঞরা (৪-৬)% ভোটার উপস্থিতি দাবি করে।
(৬) জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। (৭) তথ্যসূত্র: সংবাদ মাধ্যম।