নিম্নের বিষয়টি শুনতে পারবেন।
ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
পড়ার চেয়ে যারা শুনতে পছন্দ করেন, তাঁরা এখানে বিষয়টি শুনতে পারবেন।
অনলাইন বা সফট কপি পড়তে অভ্যস্ত নন, তাঁরা ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
৪৮খ। জাতীয় পরিষদের
দায়িত্ব
(১) জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রপতির
কাজে সহযোগীতা করিবেন, এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন,
(২) এই সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে
জাতীয় পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইলে
রাষ্টপতিকে
পরামর্শ প্রদান করিবেন।
(৩) জাতীয় পরিষদে কোনো বিল,
প্রস্তাব, রিপোর্ট বা অভিযোগ উত্থাপিত হইলে সেই বিষয়ে পর্যালোচনা শেষে ভোট প্রদানের
পূর্বে উপস্থিত সকল মুখ্য সদস্য সেই বিষয়ে মতামত ব্যক্ত বা মন্তব্য প্রকাশ করিবেন,
এরপর সিদ্ধান্ত
গৃহীত হইবে,
(ক)
জাতীয় পরিষদের কেবল মুখ্য সদস্যদের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। তবে সমসংখ্যক ভোটের
ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভোট
প্রদান করিবেন,
(খ) গণভোট
ও সংসদে সুপ্রিম বা বিভক্তি
ভোটে গৃহীত বিল বা সিদ্ধান্ত ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদানে তিন-চতুর্থাংশ
মুখ্য সদস্য বা ভারপ্রাপ্ত
প্রতিনিধির লিখিত সম্মতি (স্বাক্ষর) প্রয়োজন হইবে,
(গ) গণভোট ও বা বিভক্তি ভোটে গৃহীত বিল বা সিদ্ধান্তে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুখ্য
সদস্য বা ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধির
লিখিত সম্মতি (স্বাক্ষর) প্রয়োজন
হইবে,
(ঘ) সংসদে সুপ্রিম
ভোটে গৃহীত বিল বা সিদ্ধান্তে মুখ্য
সদস্যরা সম্মতিদানে বাধ্য থাকিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার বা সহযোগী
দলের নেতা বা তাঁদের অবর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্যের
অবশ্যই সম্মতি
থাকিতে হবে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্যে বলতে উপপ্রধানমন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার বা সহযোগী দলের
উপনেতাকে বুঝাইবে।
(৪) জাতীয়
পরিষদের নির্দিষ্ট বিষয়ের মুখ্য ও গৌণ সদস্য
এবং বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ সদস্যের সমন্বয়ে এক বা একাধিক বিশেষ কমিটি গঠন করিতে পারিবেন,
(ক) এক বা একাধিক জাতীয় পুরস্কার/পদক কমিটির মনোনীত প্রার্থীদের
কর্ম পর্যালোচনা করিয়া;
(খ) এক বা একাধিক অভিযোগ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা
করিয়া;
জাতীয় পরিষদে গৃহীত হইলে রাষ্ট্রপতিকে সেই অনুযায়ী জাতীয় পরিষদ পরামর্শ প্রদান
করবেন।
(৫) যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা
পর্যালোচনা করিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জাতীয় পরিষদে গৃহীত হইলে রাষ্ট্রপতি গণভোট অনুষ্ঠানের
ব্যবস্থা করিবেন।
(৬) জাতীয় পরিষদের গৌণ সদস্য
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, দল নিরপেক্ষতা, সততা, কর্মঠ বা নিষ্ঠা, কর্ম দক্ষতা ও অতিত কর্মের
রিপোর্ট পর্যালোচনা করিয়া জাতীয় পরিষদে গৃহীত হইলে রাষ্ট্রপতি নিয়োগেদান করবেন।
(৭)
জাতীয় পরিষদের পদ বা প্রতিষ্ঠান হ্রাস বা বৃদ্ধির করতে জাতীয়
পরিষদের সাত-অষ্টমাংশ মুখ্য ও গৌণ
সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন হবে এবং প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার বা প্রধান সহযোগী দলের
নেতার অবশ্যই সম্মতি থাকতে হবে। তবে সংসদের সুপ্রিম ভোটে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদের ঐ মেয়াদের
জন্য জাতীয় পরিষদ সেভাবে গঠিত হইবে।
(৮) এই
অনুচ্ছেদের (৩) দফায় উল্লিখিত কমিটি এই সংবিধান ও অন্য কোনো আইন-সাপেক্ষে,
(ক) জাতীয় পরিষদের উত্থাপনের পর সংসদের সুপ্রিম ভোটে গৃহীত বিল
বা সিদ্ধান্ত ব্যতীত অন্য কোনো বিল বা
সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করিতে পারিবেন;
(খ) কোনো আইন সংশোধনের প্রস্তাব এবং বলবৎ আইনের পর্যালোচনা
জাতীয় পরিষদে উত্থাপন করিতে পারিবেন।
(৯) সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
মুখ্য সদস্যরা জাতীয় পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অবগত রাখবেন এবং পরামর্শ গ্রহণ
করবেন। তবে গোপনীয় বিষয়ে কেবল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে অবগত রাখবেন এবং পরামর্শ
গ্রহণ করবেন।
(১০) জাতীয় পরিষদের গৌণ
সদস্যরা মুখ্য সদস্যদের সহযোগীতা করিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১১) জাতীয় পরিষদের নির্দিষ্ট
বিষয়ের বৈঠকে ঐ বিষয়ের গৌণ সদস্যরা উপস্থিত থাকিবে; এবং যথাযথ তথ্য-উপাত্ত, মতামত
প্রকাশ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় পরিষদকে সহযোগীতা করিবেন।
(ক) এই সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালীন
সময়ে জাতীয় পরিষদের মুখ্য বা গৌণ সদস্যদের পদের মেয়াদ পূর্ণ হলেও স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(১২) এই সংবিধানের নবম তফসিল অনুযায়ী জাতীয় পরিষদ দায়িত্ব পালন করিবেন।
“০০। ককককক= নতুন উপধারা বা ধারা, ককককক= সংযুক্ত, [কককক]০০=সংশোধিত বা পরিবর্তিত, ককককক= বিলুপ্ত, ককককক= অপরিবর্তিত"